Table of Contents
সার্টিফিকেট, নম্বরপত্র বা প্রবেশপত্র হারিয়ে গেলে কী করবেন এবং পাওয়ার উপায়
শিক্ষাজীবনের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ দলিল হলো মাধ্যমিক, উচ্চমাধ্যমিক বা অন্যান্য পরীক্ষার সার্টিফিকেট (সনদপত্র), নম্বরপত্র (মার্কশিট) এবং প্রবেশপত্র (এডমিট কার্ড)। কোনো কারণে এই মূল্যবান কাগজপত্রগুলো হারিয়ে গেলে বা নষ্ট হয়ে গেলে চিন্তিত হওয়া স্বাভাবিক। তবে সঠিক নিয়ম জানা থাকলে সহজেই শিক্ষা বোর্ড থেকে এগুলো পুনরায় উত্তোলন করা সম্ভব। আজকের আর্টিকেলে talukdaracademy.com.bd-এর পক্ষ থেকে সার্টিফিকেট বা নম্বরপত্র হারিয়ে গেলে করণীয় ও আবেদনের পূর্ণাঙ্গ গাইডলাইন শেয়ার করা হলো।
জরুরি টিপস: কাগজপত্র হারানোর বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া মাত্রই সময় নষ্ট না করে আইনি ও দাপ্তরিক পদক্ষেপ গ্রহণ করুন।
১. নিকটস্থ থানায় জিডি (General Diary) করা
সনদপত্র বা অন্যান্য প্রবেশপত্র হারানোর পর আপনার প্রথম কাজ হলো দ্রুততম সময়ে নিকটস্থ থানায় গিয়ে একটি সাধারণ ডায়েরি বা জিডি (GD) করা। জিডিতে আপনার হারানো কাগজের বিবরণ যেমন: নাম, রোল নম্বর, রেজিস্ট্রেশন নম্বর, পরীক্ষার নাম, পাসের সাল এবং বোর্ডের নাম স্পষ্টভাবে উল্লেখ করতে হবে। জিডি সম্পন্ন হলে থানার প্রদত্ত কপিটি যত্ন সহকারে নিজের কাছে গচ্ছিত রাখুন, কারণ বোর্ডে আবেদনের সময় এটি জমা দিতে হবে।
২. জাতীয় দৈনিকে পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রদান
থানায় জিডি করার পর যেকোনো একটি বহুল প্রচারিত জাতীয় দৈনিক পত্রিকায় একটি বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করতে হবে। বিজ্ঞপ্তিতে নিচের তথ্যগুলো সংক্ষেপে উল্লেখ করতে হবে:
- পরীক্ষার্থীর পূর্ণ নাম ও শাখা (বিজ্ঞান/মানবিক/ব্যবসায় শিক্ষা)
- পরীক্ষার কেন্দ্র, রোল নম্বর ও রেজিস্ট্রেশন নম্বর
- পাসের বছর ও শিক্ষা বোর্ডের নাম
- ডকুমেন্টটি যেভাবে হারিয়েছে তার সংক্ষিপ্ত বিবরণ
৩. শিক্ষা বোর্ডে আবেদনপত্র সংগ্রহ ও পূরণ
জিডি ও পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের কাজ শেষ হলে সংশ্লিষ্ট শিক্ষা বোর্ডের 'তথ্যসংগ্রহ কেন্দ্র' বা ই-সেবা ওয়েবসাইট থেকে নির্দিষ্ট আবেদনপত্র সংগ্রহ করতে হবে। আবেদন ফরমটিতে যথাযথ ও নির্ভুল তথ্য প্রদান করা বাধ্যতামূলক।
আবেদনপত্রে যেসব তথ্য পূরণ করতে হবে:
ফরম পূরণের সময় ইংরেজি ও বাংলা উভয় ভাষায় স্পষ্টাক্ষরে প্রয়োজনীয় তথ্য উল্লেখ করতে হবে:
- পরীক্ষার নাম (এসএসসি/এইচএসসি বা সমমান) এবং আবেদনের নির্দিষ্ট কারণ।
- আবেদনকারীর নাম, পিতার নাম ও মাতার নাম (সনদ অনুযায়ী)।
- শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের নাম, রোল নম্বর, রেজিস্ট্রেশন নম্বর, জিপিএ/বিভাগ ও শিক্ষাবর্ষ।
- পত্রিকায় প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তির তারিখ ও পত্রিকার নাম।
- সোনালী ব্যাংকের ড্রাফট নম্বর, ব্যাংক শাখার নাম ও তারিখ।
- সুপারিশপত্র: নিয়মিত শিক্ষার্থীদের জন্য সংশ্লিষ্ট শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রধানের দস্তখত ও সিলমোহর এবং প্রাইভেট প্রার্থীদের ক্ষেত্রে ১ম শ্রেণীর গেজেটেড কর্মকর্তার নাম ও সিলসহ স্বাক্ষর প্রয়োজন হবে।
৪. ফি প্রদান ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা
বোর্ড নির্ধারিত ফি সোনালী ব্যাংকের মাধ্যমে পে-অর্ডার বা ডিমান্ড ড্রাফট আকারে বোর্ডের সচিব বরাবর জমা দিতে হবে। ব্যাংক ড্রাফট সম্পন্ন হলে মূল আবেদনপত্রের সাথে নিচে উল্লিখিত ডকুমেন্টসমূহ যুক্ত করে বোর্ডে জমা দিন:
- মূল ব্যাংক ড্রাফটের রসিদ
- দৈনিক পত্রিকায় প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তির মূল কাটিং
- থানার জিডির মূল বা সত্যায়িত কপি
বিশেষ ব্যতিক্রম ও ফি সংক্রান্ত তথ্য
নষ্ট হওয়া ডকুমেন্টের ক্ষেত্রে: যদি আপনার সার্টিফিকেট বা নম্বরপত্র হারিয়ে না গিয়ে আংশিক পুড়ে বা নষ্ট হয়ে যায় এবং তাতে নাম, রোল, সাল ইত্যাদি স্পষ্টভাবে বোঝা যায়, তবে জিডি বা পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি দেওয়ার প্রয়োজন নেই। মূল ডকুমেন্টের আংশিক অংশ আবেদনের সাথে জমা দিলেই চলবে।
ফি-এর পরিমাণ: সাধারণত সাময়িক সনদ, প্রবেশপত্র বা নম্বরপত্রের ফি (জরুরি ফি সহ) ১৩০ টাকা থেকে শুরু হয়। এছাড়া দ্বি-নকল, ত্রি-নকল বা চৌ-নকলের জন্য যথাক্রমে ১৫০ টাকা থেকে ২৫০ টাকা পর্যন্ত ব্যাংক ড্রাফট করতে হতে পারে। তবে ফি এর পরিমাণ বোর্ডভেদে সময়ের সাথে পরিবর্তিত হতে পারে। তাই বর্তমান তথ্য পেতে বোর্ডের নিজস্ব অনলাইন পোর্টালে ভিজিট করতে পারেন।
বর্তমানে শিক্ষা বোর্ডগুলোর ডিজিটাল ই-সেবা ব্যবস্থার কারণে ছাত্র-ছাত্রীরা খুব সহজেই ঘরে বসে কিংবা নিকটস্থ কম্পিউটারের দোকান থেকে অনলাইনে আবেদনের কাজ সম্পন্ন করতে পারছেন। যেকোনো শিক্ষা সংক্রান্ত তথ্যের জন্য নিয়মিত চোখ রাখুন talukdaracademy.com.bd-এ।