HSC 2026 Bangla 2nd Paper Question Solved – এইচএসসি ২০২৬ বাংলা ২য় পত্র প্রশ্ন ও উত্তরমালা

এইচএসসি ২০২৬ বাংলা ২য় পত্র পরীক্ষার প্রশ্নের নির্ভুল সমাধান ও PDF ডাউনলোড লিঙ্ক। এক ক্লিকেই দেখে নিন HSC Bangla 2nd Paper Question Solve।
Table of Contents

 বাংলা দ্বিতীয় পত্র প্রশ্ন দেখুন এখানে।

এইচএসসির বাংলা দ্বিতীয় পত্র প্রশ্ন দেখুন

এইচএসসির বাংলা দ্বিতীয় পত্র প্রশ্ন দেখুন

এইচএসসির বাংলা দ্বিতীয় পত্র প্রশ্ন দেখুনএইচএসসির বাংলা দ্বিতীয় পত্র প্রশ্ন দেখুন

HSC বাংলা ২য় পত্র প্রশ্নপত্র (Set: ০৪) — ২০২৬

বাংলা | দ্বিতীয় পত্র | [২০২৬ সালের সিলেবাস অনুযায়ী] | বিষয় কোড: ১০২
সময়: ৩ ঘণ্টা | পূর্ণমান: ১০০
পত্র নং: ১৯৭ | ১০১৬/২০২৬

[দ্রষ্টব্য: ডান পাশের সংখ্যা প্রশ্নের পূর্ণমান জ্ঞাপক। একই প্রশ্নের উত্তরে সাধু ও চলিত ভাষারীতির মিশ্রণ দূষণীয়।]

১। (ক) উদাহরণসহ ম-ফলা উচ্চারণের পাঁচটি নিয়ম লেখো। [০৫]

উত্তর (ক): ম-ফলা উচ্চারণের ৫টি নিয়ম:

১. পদের শুরুতে: পদের আদ্য বা প্রথম ব্যঞ্জনধ্বনিতে ম-ফলা যুক্ত হলে সাধারণত সেই ম-ফলার উচ্চারণ হয় না; কেবল স্বরধ্বনিতে সামান্য নাসিক্য সুর বা অনুনাসিকতা যুক্ত হয়। যেমন: স্মরণ (শঁরোন্), শ্মশান (শঁশান্)।

২. পদের মধ্যে বা শেষে: পদের মধ্যবর্তী বা অন্ত্য ব্যঞ্জনধ্বনিতে ম-ফলা যুক্ত হলে ম-ফলার নিজস্ব উচ্চারণ লোপ পায় এবং সংশ্লিষ্ট ব্যঞ্জনধ্বনিটির দ্বিত্ব (দুইবার) উচ্চারণ হয়। একই সাথে সামান্য নাসিক্য সুর প্রকাশ পায়। যেমন: আত্মীয় (আত্তিওঁ), পদ্ম (পদদোঁ/পদ্‌দোঁ)।

৩. নির্দিষ্ট কিছু ব্যঞ্জনের সাথে: গ, ঙ, ট, ণ, ন, ম ও ল—এই ব্যঞ্জনধ্বনিগুলোর সাথে ম-ফলা যুক্ত হলে ম-এর উচ্চারণ অবিকৃত বা স্পষ্ট থাকে। যেমন: বাগ্মী (বাগ্‌মি), মৃণ্ময় (মৃন্‌ময়), জন্ম (জনমো), গুল্ম (গুল্‌মো)।

৪. যুক্ত ব্যঞ্জনের সাথে: পদের মধ্যে বা শেষে কোনো যুক্ত ব্যঞ্জনের সাথে ম-ফলা যুক্ত হলে ম-এর উচ্চারণ সম্পূর্ণ লোপ পায় এবং ব্যঞ্জনের দ্বিত্বও হয় না। যেমন: সূক্ষ্ম (সুক্‌খো), যক্ষ্মা (জক্‌খা), লক্ষ্মণ (লক্‌খোন)।

৫. তৎসম বা সংস্কৃত শব্দের ক্ষেত্রে: কিছু তৎসম বা সংস্কৃত শব্দে ম-ফলার উচ্চারণ সংস্কৃত মূল নিয়মানুযায়ী অবিকৃত থাকে। যেমন: কুষ্মাণ্ড (কুশ্‌মান্‌ডো), সুস্মিতা (শুশমিতা)।

(খ) যে-কোনো পাঁচটি শব্দের শুদ্ধ উচ্চারণ লেখো:

ব্যাখ্যা, যুগ্ম, যৌবন, শাশ্বত, দ্রষ্টব্য, বৈশাখ, দেশপ্রেম, অতুল। [০৫]

উত্তর (খ): শুদ্ধ উচ্চারণ:

  • ব্যাখ্যা → ব্যাক্‌খা

  • যুগ্ম → জুগ্‌মো

  • যৌবন → জৌবোন

  • শাশ্বত → শাশ্‌শতো

  • দ্রষ্টব্য → দ্রোশ্‌টোব্‌বো

  • বৈশাখ → বোইশাখ

  • দেশপ্রেম → দেশপ্রেম্ (বা দেশোপ্রেম্)

  • অতুল → অতুল্

২। (ক) ষ-ত্ব বিধান কী? উদাহরণসহ ষ-ত্ব বিধানের পাঁচটি নিয়ম লেখো। [০৫]

উত্তর (ক): ষ-ত্ব বিধান:

বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত তৎসম বা সংস্কৃত শব্দের বানানে মূর্ধন্য ‘ষ’-এর সঠিক ও নিয়মনিষ্ঠ ব্যবহারের নিয়ম বা সূত্রকে ষ-ত্ব বিধান বলে।

ষ-ত্ব বিধানের ৫টি নিয়ম:

১. ঋ এবং ঋ-কারের পর: তৎসম শব্দে ঋ বা ঋ-কার ( ৃ )-এর পর সর্বদা মূর্ধন্য ‘ষ’ হয়। যেমন: ঋষি, কৃষক, দৃষ্টি, সৃষ্টি।

২. রেফ ( র্ )-এর পর: তৎসম শব্দে রেফ ( র্ )-এর পর মূর্ধন্য ‘ষ’ হয়। যেমন: বর্ষা, আকর্ষণ, ঘর্ষণ, হর্ষ।

৩. ট-বর্গীয় ধ্বনির সাথে: তৎসম শব্দে ট-বর্গীয় ধ্বনির (ট ও ঠ) সাথে যুক্তব্যঞ্জন গঠনে সর্বদা মূর্ধন্য ‘ষ’ হয়। যেমন: কষ্ট, নষ্ট, শ্রেষ্ঠ, অনুষ্ঠান।

৪. ই-কারান্ত ও উ-কারান্ত উপসর্গের পর: ই-কারান্ত এবং উ-কারান্ত উপসর্গের পর কতগুলো ধাতুর স-ধ্বনিতে মূর্ধন্য ‘ষ’ হয়। যেমন: অভিষেক, সুষমা, প্রতিষেধক, বিষম।

৫. স্বরধ্বনি ও নির্দিষ্ট ব্যঞ্জনের পর: অ বা আ ভিন্ন অন্য স্বরধ্বনি এবং ক ও র ধ্বনির পরবর্তী ‘স’ রূপান্তরিত হয়ে মূর্ধন্য ‘ষ’ হয়। যেমন: পরিষ্কার, মুমূর্ষু, চিকিৎসা, ভবিষ্যৎ।

(খ) যে-কোনো পাঁচটি শব্দের বানান শুদ্ধ করে লেখো:

রুগ্ন, সম্বর্ধনা, কর্মনিষ্ঠা, প্রতিদ্বন্দ্বি, মনোপুত, বাল্মিকি, স্বত্বাধিকারি, পৈত্রিক। [০৫]

উত্তর (খ): শুদ্ধ বানান:

  • রুগ্ন → রুগ্‌ণ

  • সম্বর্ধনা → সংবর্ধনা

  • কর্মনিষ্ঠা → কর্মনিষ্ঠা

  • প্রতিদ্বন্দ্বি → প্রতিদ্বন্দ্বী

  • মনোপুত → মনঃপূত

  • বাল্মিকি → বাল্মীকি

  • স্বত্বাধিকারি → স্বত্বাধিকারী

  • পৈত্রিক → পৈতৃক

৩। (ক) আবেগ শব্দ কাকে বলে? আবেগ শব্দের শ্রেণিবিভাগ উদাহরণসহ আলোচনা করো। [০৫]

উত্তর (ক): আবেগ শব্দ:

যেসব শব্দ বাক্যের অন্য কোনো পদের সাথে ব্যাকরণিক বা বাক্যতাত্ত্বিক সম্পর্ক না রেখে স্বাধীনভাবে ব্যবহৃত হয় এবং বক্তার মনের নানা ভাব, উচ্ছ্বাস, বিস্ময়, আনন্দ, দুঃখ, ঘৃণা বা আবেগ প্রকাশ করে, তাকে আবেগ শব্দ বলে। যেমন: বাহ! কী সুন্দর একটি সকাল।

আবেগ শব্দের শ্রেণিবিভাগ (উদাহরণসহ):

১. বিস্ময়সূচক আবেগ শব্দ: যা বক্তার মনের বিস্ময় বা চমক প্রকাশ করে। যেমন: আরে! তুমি কখন এলে?

২. প্রশংসাসূচক আবেগ শব্দ: যা কোনো কাজের তারিফ বা প্রশংসা প্রকাশ করে। যেমন: সাব্বাস! বাংলাদেশের ছেলেরা অসাধারণ খেলেছে।

৩. বিরক্তিসূচক আবেগ শব্দ: যা মনের বিরক্তি, অবজ্ঞা বা ঘৃণা প্রকাশ করে। যেমন: ছি ছি! এ কাজ তোমার দ্বারা সম্ভব হলো?

৪. ভয় ও যন্ত্রণাসূচক আবেগ শব্দ: যা ভয়, আতঙ্ক বা শারীরিক কষ্ট প্রকাশ করে। যেমন: উফ! পায়ে বড্ড ব্যথা পেয়েছি।

৫. করুণাসূচক আবেগ শব্দ: যা মনের সহানুভূতি, দুঃখ বা করুণা প্রকাশ করে। যেমন: হায় হায়! লোকটার সব পুড়ে ছাই হয়ে গেল।

৬. সম্মতিসূচক আবেগ শব্দ: যা কোনো বিষয়ে সম্মতি বা অনুমোদন প্রকাশ করে। যেমন: বেশ, তুমি যা বলছ তা-ই হবে।

৭. সম্বোধনসূচক আবেগ শব্দ: যা কাউকে ডাকা বা মনোযোগ আকর্ষণের জন্য ব্যবহৃত হয়। যেমন: ওগো, শুনে যাও।

(খ) নিম্নরেখ যে-কোনো পাঁচটি শব্দের ব্যাকরণিক শ্রেণি নির্দেশ করো:

(i) শরীর ভালো হলে তুমি কাজ করবে নতুবা বসে থাকবে।

(ii) কর্ষিত জমির প্রতিটি শস্যদানা কবিতা।

(iii) আমার কিছু বলার নেই।

(iv) সবাই কফি খেতে চাচ্ছে।

(v) আমাদের যাত্রা সমুদ্র অভিমুখে।

(vi) এতক্ষণে অরিন্দম কহিলা বিষাদে।

(vii) ওগো, আজ তোরা যাসনে ঘরের বাহিরে।

(viii) বিরাট দুঃসাহসেরা দেয় যে উঁকি।

[০৫]

উত্তর (খ): ব্যাকরণিক শ্রেণি নির্দেশ:

(i) নতুবা → যোজক (বৈকল্পিক যোজক)

(ii) কর্ষিত → বিশেষণ (নাম বিশেষণ)

(iii) কিছু → সর্বনাম (অনির্দিষ্টতাবাচক সর্বনাম)

(iv) সবাই → সর্বনাম (সাকল্যবাচক সর্বনাম)

(v) অভিমুখে → অনুসর্গ

(vi) বিষাদে → ক্রিয়া বিশেষণ (বা ক্রিয়াবিশেষণ)

(vii) ওগো → আবেগ শব্দ (সম্বোধনসূচক আবেগ)

(viii) দুঃসাহসেরা → বিশেষ্য (ভাববাচক বিশেষ্য)

৪। (ক) যে-কোনো পাঁচটি শব্দের প্রত্যয়ের নামসহ প্রকৃতি ও প্রত্যয় নির্ণয় করো:

বর্ধমান, শ্রবণীয়, নবান্ন, সৌন্দর্য, সৃষ্টি, সম্রাট, শৈশব, বার্ষিক। [০৫]

উত্তর (ক): প্রকৃতি ও প্রত্যয় নির্ণয়:

  • বর্ধমান = √বৃধ্ + শানচ্ (মান) → কৃৎ প্রত্যয় (তৎসম কৃৎ)

  • শ্রবণীয় = √শ্রু + অনীয় → কৃৎ প্রত্যয় (তৎসম কৃৎ)

  • নবান্ন = নব + অন্ন → তদ্ধিত প্রত্যয়

  • সৌন্দর্য = সুন্দর + ষ্য (য/ষ্ণ্য) → তদ্ধিত প্রত্যয় (তৎসম তদ্ধিত)

  • সৃষ্টি = √সৃজ্ + তি (ক্তি) → কৃৎ প্রত্যয় (তৎসম কৃৎ)

  • সম্রাট = সম্ – √রাজ্ + ক্বিপ্ (০/অ) → কৃৎ প্রত্যয় (তৎসম কৃৎ)

  • শৈশব = শিশু + ষ্ণ (অ) → তদ্ধিত প্রত্যয় (তৎসম তদ্ধিত)

  • বার্ষিক = বর্ষ + ষ্ণিক (ইক) → তদ্ধিত প্রত্যয় (তৎসম তদ্ধিত)

(খ) যে-কোনো পাঁচটি শব্দের ব্যাসবাক্যসহ সমাসের নাম লেখো:

সত্যাসত্য, পরোক্ষ, জীবনানন্দ, শৌখিন, আলোকচিত্র, অরুণরাঙা, মহাত্মা, যুগান্তর। [০৫]

উত্তর (খ): ব্যাসবাক্যসহ সমাস নির্ণয়:

  • সত্যাসত্য: সত্য ও অসত্য = দ্বন্দ্ব সমাস (বিপরীতার্থক দ্বন্দ্ব)

  • পরোক্ষ: অক্ষির অগোচরে = অব্যয়ীভাব সমাস

  • জীবনানন্দ: জীবনের আনন্দ (বা জীবনব্যাপী আনন্দ) = ষষ্ঠী তৎপুরুষ সমাস (বা মধ্যপদলোপী কর্মধারয়)

  • শৌখিন: শখ আছে যার = বহুব্রীহি সমাস (প্রত্যয়ান্ত বহুব্রীহি)

  • আলোকচিত্র: আলোক দ্বারা গৃহীত চিত্র = মধ্যপদলোপী কর্মধারয় সমাস (বা তৃতীয় তৎপুরুষ)

  • অরুণরাঙা: অরুণের ন্যায় রাঙা = উপমান কর্মধারয় সমাস

  • মহাত্মা: মহান আত্মা যার = সমানাধিকরণ বহুব্রীহি সমাস

  • যুগান্তর: অন্য যুগ = নিত্য সমাস

৫। (ক) বাক্য কাকে বলে? অর্থ অনুসারে বাক্য কত প্রকার ও কী কী? উদাহরণসহ আলোচনা করো। [০৫]

উত্তর (ক): বাক্য:

যে সুবিন্যস্ত পদসমষ্টি দ্বারা কোনো বিষয়ে বক্তার মনের ভাব সম্পূর্ণরূপে প্রকাশিত হয়, তাকে বাক্য বলে।

অর্থ অনুসারে বাক্যের প্রকারভেদ:

অর্থ বা ভাবের বৈচিত্র্য অনুসারে বাংলা বাক্যকে প্রধানত পাঁচ ভাগে ভাগ করা হয়। যথা:

১. নির্দেশক বা বর্ণনাত্মক বাক্য (Assertive Sentence): যে বাক্যে কোনো কিছু সাধারণভাবে বর্ণনা বা নির্দেশ করা হয়। এ বাক্য দুই প্রকার—অস্তিবাচক ও নেতিবাচক।

  • উদাহরণ: বাংলাদেশ একটি স্বাধীন রাষ্ট্র।

    ২. প্রশ্নবোধক বাক্য (Interrogative Sentence): যে বাক্যে কোনো ব্যক্তি, বস্তু বা বিষয় সম্পর্কে কোনো কিছু জানতে চেয়ে প্রশ্ন করা হয়।

  • উদাহরণ: আপনি কি আজ বিশ্ববিদ্যালয়ে যাবেন?

    ৩. অনুজ্ঞাসূচক বাক্য (Imperative Sentence): যে বাক্যে আদেশ, নিষেধ, অনুরোধ, উপদেশ, অনুমতি ইত্যাদি প্রকাশ পায়।

  • উদাহরণ: সর্বদা সত্য কথা বলবে। (উপদেশ) / রৌদ্রে দৌড়াদৌড়ি করো না। (নিষেধ)

    ৪. প্রার্থনাসূচক বা ইচ্ছাসূচক বাক্য (Optative Sentence): যে বাক্যে বক্তার মনের কোনো ইচ্ছা, আকাঙ্ক্ষা, আশীর্বাদ বা প্রার্থনা প্রকাশ পায়।

  • উদাহরণ: ঈশ্বর তোমার মঙ্গল করুন। / বাংলাদেশ চিরজীবী হোক।

    ৫. বিস্ময়সূচক বা আবেগসূচক বাক্য (Exclamatory Sentence): যে বাক্যে বক্তার মনের আকস্মিক আবেগ, বিস্ময়, উচ্ছ্বাস, আনন্দ, শোক বা দুঃখ প্রকাশ পায়।

  • উদাহরণ: বাহ! কী চমৎকার একটি গোল হলো! / হায়! লোকটার কী নির্মম পরিণতি হলো!

(খ) বন্ধনীর নির্দেশ অনুযায়ী যে-কোনো পাঁচটি বাক্যের রূপান্তর করো:

(i) আমার পথ দেখাবে আমার সত্য। (জটিল)

(ii) যারা পরিশ্রমী, তারা সফল হয়। (সরল)

(iii) শীতে দরিদ্র মানুষের খুব কষ্ট হয়। (বিস্ময়সূচক)

(iv) নীরব ভাষায় বৃক্ষ আমাদের সার্থকতার গান গেয়ে শোনায়। (প্রশ্নবোধক)

(v) যদিও সে অশিক্ষিত, তবু সে দেশপ্রেমিক। (যৌগিক)

(vi) সময় নষ্ট না করে কাজটা শুরু করে দেওয়া যাক। (অনুজ্ঞাসূচক)

(vii) মানুষের তৈরি দুর্যোগও অনেক ক্ষতি করে। (নেতিবাচক)

(viii) কারো মুখে কথা সরে না। (অস্তিবাচক)

[০৫]

উত্তর (খ): বাক্য রূপান্তর:

(i) জটিল: যা আমার সত্য, তা-ই আমার পথ দেখাবে। (বা: যে সত্য আমার, সেই সত্যই আমার পথ দেখাবে।)

(ii) সরল: পরিশ্রমীরা সফল হয়। (বা: পরিশ্রমী ব্যক্তিরা সফল হয়।)

(iii) বিস্ময়সূচক: আহা, শীতে দরিদ্র মানুষের কী কষ্ট!

(iv) প্রশ্নবোধক: নীরব ভাষায় বৃক্ষ কি আমাদের সার্থকতার গান গেয়ে শোনায় না?

(v) যৌগিক: সে অশিক্ষিত কিন্তু দেশপ্রেমিক।

(vi) অনুজ্ঞাসূচক: সময় নষ্ট না করে কাজটা শুরু করে দাও।

(vii) নেতিবাচক: মানুষের তৈরি দুর্যোগও কম ক্ষতি করে না।

(viii) অস্তিবাচক: সবাই নীরব হয়ে থাকে। (বা: সকলেই বাকরুদ্ধ হয়ে পড়ে।)

৬। (ক) যে-কোনো পাঁচটি বাক্য শুদ্ধ করে লেখো:

(i) আমার বক্তব্য আর দীর্ঘায়িত করব না।

(ii) আমার হৃদয় মন্দিরে আশার বীজ উপ্ত হলো।

(iii) আজ আমার বয়স কেবলমাত্র সাতাশ।

(iv) কালীদাশ ‘মেঘদূত’ কাব্য রচনা করেন।

(v) ছেলেটি দুর্দান্ত মেধাবী।

(vi) তার সৌজন্যতায় মুগ্ধ হলাম।

(vii) কথাটি শুনে তিনি আশ্চর্য হলেন।

(viii) দ্রব্যমূল্যের দাম ক্রমবর্ধমান।

[০৫]

উত্তর (ক): বাক্য শুদ্ধিকরণ:

(i) আমার বক্তব্য আর দীর্ঘ করব না। (বা: আমার বক্তব্য আর দীর্ঘায়িত হবে না।)

(ii) আমার হৃদয়-ক্ষেত্রে আশার বীজ উপ্ত হলো।

(iii) আজ আমার বয়স কেবল সাতাশ। (বা: আজ আমার বয়স মাত্র সাতাশ।)

(iv) কালিদাস ‘মেঘদূত’ কাব্য রচনা করেন।

(v) ছেলেটি অত্যন্ত মেধাবী।

(vi) তার সৌজন্যে মুগ্ধ হলাম।

(vii) কথাটি শুনে তিনি আশ্চর্যান্বিত হলেন। (বা: কথাটি শুনে তিনি আশ্চর্য বোধ করলেন।)

(viii) দ্রব্যমূল্য ক্রমবর্ধমান। (বা: দ্রব্যের দাম ক্রমবর্ধমান।)

(খ) নিচের অনুচ্ছেদের অপপ্রয়োগগুলো শুদ্ধ করে লেখো:

“দারিদ্র্যতা আজ আর বাংলাদেশের প্রধান সমস্যা নয়। আমাদের দেশ এখন সমৃদ্ধশালী। কেবলমাত্র দুর্নীতিই আমাদের পেছনে টানে। এ থেকে মুক্তির পাশাপাশি জাতীয় জীবনের সর্বক্ষেত্রে কৃচ্ছতা সাধন প্রয়োজন। প্রয়োজন দলমত নির্বিশেষে ঐক্যতা।” [০৫]

উত্তর (খ): শুদ্ধ অনুচ্ছেদ:

দারিদ্র্য (বা দরিদ্রতা) আজ আর বাংলাদেশের প্রধান সমস্যা নয়। আমাদের দেশ এখন সমৃদ্ধ (বা সমৃদ্ধিশালী)। কেবল (বা শুধু) দুর্নীতিই আমাদের পেছনে টানে। এ থেকে মুক্তির পাশাপাশি জাতীয় জীবনের সর্বক্ষেত্রে কৃচ্ছ্রসাধন প্রয়োজন। প্রয়োজন দলমত-নির্বিশেষে ঐক্য

৭। (ক) যে কোনো দশটি শব্দের বাংলা পারিভাষিক রূপ লেখো:

Assembly, Bulletin, Significant, Tourist, Purchase, Reform, Ordinance, Prefix, State Minister, Import, Judicial, Hostile, Chief whip, Souvenir, Debt. [১০]

উত্তর (ক): পারিভাষিক শব্দ:

  • Assembly – পরিষদ / সভা

  • Bulletin – জ্ঞাপনপত্র / বুলেটিন

  • Significant – তাৎপর্যপূর্ণ / গুরুত্বপূর্ণ

  • Tourist – পর্যটক

  • Purchase – ক্রয়

  • Reform – সংস্কার

  • Ordinance – অধ্যাদেশ

  • Prefix – উপসর্গ

  • State Minister – প্রতিমন্ত্রী

  • Import – আমদানি

  • Judicial – বিচার বিভাগীয় / বিচারিক

  • Hostile – প্রতিকূল / শত্রুভাবাপন্ন

  • Chief whip – মুখ্য সচেতক / প্রধান সচেতক

  • Souvenir – স্মারক / স্মৃতিচিহ্ন

  • Debt – ঋণ

(খ) নিচের অনুচ্ছেদটি বাংলায় অনুবাদ করো:

“Many people put off for tomorrow the work they can do today. Students also very often put off their class lessons for tomorrow. Nothing is more injurious than this habit. Men do not know what will happen tomorrow! A lot of troubles and dangers may come and upset everything.” [১০]

উত্তর (খ): বঙ্গানুবাদ:

অনেকেই আজ যে কাজটি করতে পারেন, তা আগামীকালের জন্য ফেলে রাখেন। শিক্ষার্থীরাও প্রায়শই তাদের ক্লাসের পড়া আগামীকালের জন্য রেখে দেয়। এই অভ্যাসের চেয়ে ক্ষতিকর আর কিছুই হতে পারে না। মানুষ জানে না আগামীকাল কী ঘটবে! নানাবিধ বিপদ-আপদ ও ঝামেলা এসে সবকিছু ওলটপালট করে দিতে পারে।

৮। (ক) তোমার ঘুরে আসা কোনো দর্শনীয় স্থান পরিদর্শনের অনুভূতি প্রকাশ করে একটি দিনলিপি লেখো। [১০]

উত্তর (ক): দিনলিপি রচনা:

ঐতিহ্য ও ইতিহাসের সান্নিধ্যে এক অনন্য দিন

তারিখ: ১৫ মার্চ ২০২৬, মঙ্গলবার

স্থান: ঢাকা

সময়: রাত ১০টা ৩০ মিনিট

আজকের দিনটি আমার জীবনের অন্যতম স্মরণীয় ও নান্দনিক একটি দিন হিসেবে মনের মণিকোঠায় জমা হয়ে থাকবে। অনেক দিনের ইচ্ছা ছিল বাংলার প্রাচীন রাজধানী সোনারগাঁও ভ্রমণের। আজ সকালে পরিবারের সবার সাথে সেই উদ্দেশ্যে যাত্রা শুরু করলাম। যানজট পেরিয়ে যখন আমরা সোনারগাঁও লোকশিল্প জাদুঘর ও পানাম নগরে পৌঁছালাম, তখন মনে হলো যেন নিমেষেই কয়েক শতক আগের কোনো এক ঐতিহাসিক যুগে ফিরে এসেছি।

প্রথমে আমরা প্রবেশ করলাম বাংলাদেশ লোক ও কারুশিল্প ফাউন্ডেশনে। শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদিনের উদ্যোগে প্রতিষ্ঠিত এই জাদুঘরের প্রতিটি কক্ষে বাংলার আবহমান লোকসংস্কৃতির নিপুণ নিদর্শন সাজানো রয়েছে। প্রাচীন নকশিকাঁথা, পোড়ামাটির ফলক, কাঠ ও তামা-কাঁসার তৈরি তৈজসপত্র দেখে আমাদের পূর্বপুরুষদের শৈল্পিক বোধ ও সমৃদ্ধ ঐতিহ্যের পরিচয় পেলাম। জাদুঘরের বাইরের শান্ত লেক এবং ছায়াসুনিবিড় প্রাকৃতিক পরিবেশ মনকে এক অপূর্ব প্রশান্তিতে ভরিয়ে দিল।

এরপর আমরা গেলাম ঐতিহাসিক ‘পানাম নগর’-এ। সারি সারি লাল ইটের পুরোনো ও জরাজীর্ণ ভবনগুলো যেন কালের সাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়ে আছে। ঈশা খাঁর আমল এবং পরবর্তীকালে ধনী হিন্দু বণিকদের তৈরি এই স্থাপত্যগুলোর নকশা ও নির্মাণশৈলী সত্যিই বিস্ময়কর। প্রতিটি দেয়াল যেন ফিসফিস করে অতীতের কোনো বীরত্বগাঁথা বা ফেলে আসা ধনাঢ্য জীবনের গল্প শোনাচ্ছিল।

বিকেলে লেকের পাড়ে বসে শীতল বাতাসে কিছু সময় কাটালাম। ইতিহাস, ঐতিহ্য আর প্রকৃতির এমন অপূর্ব সমন্বয় খুব কমই দেখা যায়। সন্ধ্যায় যখন ঢাকার উদ্দেশ্যে ফিরতি পথ ধরলাম, তখনো পানাম নগরের সেই প্রাচীন স্মৃতিগুলো চোখের সামনে ভাসছিল। স্বদেশের সমৃদ্ধ ইতিহাসের এই প্রত্যক্ষ অভিজ্ঞতা আমার মনকে গর্ব ও ভালোবাসায় পরিপূর্ণ করে তুলেছে।

(খ) ‘আর্তমানবতার সেবায় তরুণ সমাজ’—তরুণদের সচেতন করার লক্ষ্যে এ বিষয়ে একটি ভাষণ তৈরি করো। [১০]

উত্তর (খ): ভাষণ তৈরি:

আর্তমানবতার সেবায় তরুণ সমাজ

উপস্থিত সুধীমণ্ডলী, সম্মানিত সভাপতি এবং আমার প্রাণের স্পন্দন তরুণ বন্ধুরা—

সবাইকে জানাই আমার আন্তরিক সালাম ও শুভ অপরাহ্ণ। আজ এমন একটি অত্যন্ত সময়োপযোগী ও গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে আমাকে বক্তব্য রাখার সুযোগ দেওয়ায় আমি সংশ্লিষ্ট সকলের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি। আজকের আলোচনার বিষয়—‘আর্তমানবতার সেবায় তরুণ সমাজ’

প্রিয় তরুণ বন্ধুরা,

যেকোনো জাতির প্রধান চালিকাশক্তি ও সোনালী ভবিষ্যৎ হলো তার যুবসমাজ বা তরুণরা। তরুণের হৃদয়ে থাকে অফুরন্ত প্রাণশক্তি, চোখে থাকে নতুন পৃথিবী গড়ার স্বপ্ন এবং বাহুতে থাকে যেকোনো বাধা চূর্ণ করার অদম্য সাহস। ইতিহাস সাক্ষী, বায়ান্নর ভাষা আন্দোলন থেকে শুরু করে একাত্তরের মহান মুক্তিযুদ্ধ এবং যেকোনো জাতীয় সংকটে এই তরুণরাই বুকের তাজা রক্ত ঢেলে দিয়ে দেশ ও জাতিকে রক্ষা করেছে।

কিন্তু বন্ধুরা, শুধু রাজনৈতিক বা রাষ্ট্রীয় আন্দোলনেই নয়, মানবতার চরম বিপর্যয়েও তরুণদের ভূমিকা সর্বাগ্রে। আজ আমরা যদি আমাদের চারপাশের সমাজের দিকে তাকাই, দেখতে পাব অসংখ্য মানুষ দারিদ্র্য, রোগশোক, প্রাকৃতিক দুর্যোগ এবং সামাজিক বৈষম্যের শিকার হয়ে অসহায় জীবন যাপন করছে। বন্যায় প্লাবিত অসহায় মানুষের আর্তনাদ, তীব্র শীতে ফুটপাতে ঠকঠক করে কাঁপা শীতার্ত শিশুর কান্না কিংবা অর্থাভাবে বিনা চিকিৎসায় ধুঁকে ধুঁকে মরা রোগীর হাহাকার—এই সব আর্তমানবতার ডাক কি আমাদের তরুণদের হৃদয়কে নাড়া দেবে না?

আমার সহযাত্রী বন্ধুরা,

মানুষের সেবাই হলো পরম ধর্ম ও শ্রেষ্ঠ ইবাদত। স্বামী বিবেকানন্দ বলেছিলেন, "জীবে প্রেম করে যেই জন, সেই জন সেবিছে ঈশ্বর।" আমরা যদি আমাদের সময়ের কিছুটা অংশ, আমাদের শক্তির কিছুটা অংশ অসহায় মানুষের কল্যাণে ব্যয় করি, তবে এই সমাজ বদলে যেতে বাধ্য। আমরা রক্তদান কর্মসূচি পরিচালনা করতে পারি, সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের শিক্ষার আলোয় আলোকিত করতে পারি, প্রাকৃতিক দুর্যোগে দুর্গত মানুষের পাশে ত্রাণ ও ভালোবাসার হাত বাড়িয়ে দিতে পারি। মনে রাখবেন, একজনের একার পক্ষে হয়তো পৃথিবী বদলানো সম্ভব নয়, কিন্তু আমরা সবাই মিলে যদি কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে এগিয়ে আসি, তবে কোনো মানুষই আর অসহায় থাকবে না।

আসুন, আমরা সব ধরনের স্বার্থপরতা ও আত্মকেন্দ্রিকতা ভুলে গিয়ে মানবতার কল্যাণে নিজেদের উৎসর্গ করি। আমাদের যৌবনের উদ্দীপনা ও মানবিক বোধেই গড়ে উঠুক একটি বৈষম্যহীন, সুন্দর ও ভালোবাসাময় পৃথিবী। আর্তমানবতার সেবায় তরুণদের এই অগ্রযাত্রা চিরঞ্জীব হোক।

সবাইকে ধন্যবাদ জানিয়ে আমি আমার বক্তব্য শেষ করছি।

বাংলাদেশ চিরজীবী হোক। মানবতা জয়ী হোক।

৯। (ক) বাংলা নববর্ষের শুভেচ্ছা জানিয়ে বন্ধুর নিকট প্রেরণের জন্য একটি বৈদ্যুতিন চিঠি লেখো। [১০]

উত্তর (ক): বৈদ্যুতিন চিঠি (ই-মেইল):

To: rafik.ahmed@email.com

From: shafiq.hasan@email.com

Subject: শুভ নববর্ষ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ-এর শুভেচ্ছা!

প্রিয় রফিক,

পত্রের শুরুতে আমার সস্নেহ ভালোবাসা ও উষ্ণ শুভেচ্ছা নিস। আশা করি পরিবারের সবাইকে নিয়ে বেশ ভালো আছিস।

আজ চৈত্র সংক্রান্তির শেষ দিন, কাল থেকেই শুরু হচ্ছে আমাদের প্রাণের উৎসব বাংলা নববর্ষ। নতুন বছর ১৪৩৩ বঙ্গাব্দের এই শুভক্ষণে তোর ও তোর পরিবারের সকলের প্রতি রইল আমার হৃদয়ের গভীর থেকে নববর্ষের অনেক অনেক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন—"শুভ নববর্ষ!"

পুরোনো বছরের যত দুঃখ, গ্লানি, হতাশা ও ব্যর্থতা আছে, কালকের বৈশাখী ঝড়ে তা সব উড়ে যাক। নতুন সূর্যের আলোয় তোর জীবন ভরে উঠুক অনাবিল আনন্দ, সুখ, শান্তি ও নতুন সম্ভাবনায়। আমরা যেন সব ধরনের সংকীর্ণতা ভুলে গিয়ে বাঙালি সংস্কৃতির উদার চেতনায় নিজেদের আলোকিত করতে পারি—এই কামনাই করি।

এবার নববর্ষের দিনে তোকে খুব মিস করব। সময় করে অবশ্যই আমাদের বাসায় আসিস। একসাথে পান্তা-ইলিশ খেয়ে মেলায় ঘুরতে যাব। কাকিমা ও কাকাকে আমার সশ্রদ্ধ সালাম জানাস এবং ছোটদের দিস অনেক আদর। নতুন বছরটি তোর জীবনের অন্যতম সেরা বছর হোক!

ভালো থাকিস, সুস্থ থাকিস।

ইতি,

তোর পরম বন্ধু,

শফিক

(খ) কোনো বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানে অফিসার পদে নিয়োগের জন্য একটি আবেদনপত্র রচনা করো। [১০]

উত্তর (খ): চাকরির আবেদনপত্র:

তারিখ: ২০ এপ্রিল ২০২৬

বরাবর,

ব্যবস্থাপনা পরিচালক

মেঘনা গ্রুপ অব ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড

গুলশান-১, ঢাকা-১২১২।

বিষয়: ‘অফিসার (মার্কেটিং/প্রশাসন)’ পদে নিয়োগের জন্য আবেদন।

মহোদয়,

সবিনয় নিবেদন এই যে, গত ১৫ এপ্রিল ২০২৬ তারিখে দেশের বহুল প্রচারিত ‘দৈনিক প্রথম আলো’ পত্রিকায় প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে জানতে পারলাম যে, আপনার সুপরিচিত ও স্বনামধন্য প্রতিষ্ঠানে ‘অফিসার’ পদে কিছুসংখ্যক যোগ্য ও উদ্যমী কর্মী নিয়োগ করা হবে। আমি নিজেকে উক্ত পদের জন্য একজন উপযুক্ত ও আগ্রহী প্রার্থী হিসেবে বিবেচনা করে নিচে আমার জীবনবৃত্তান্ত ও প্রয়োজনীয় তথ্যাদি পেশ করছি।

জীবনবৃত্তান্ত:

১. নাম : মো. আশরাফুল ইসলাম

২. পিতার নাম : মো. শফিকুল ইসলাম

৩. মাতার নাম : আমেনা বেগম

৪. স্থায়ী ও বর্তমান ঠিকানা : বাড়ি নং-১২, সড়ক নং-৪, ধানমন্ডি, ঢাকা-১২০৯

৫. জন্মতারিখ : ১৫ জানুয়ারি ২০০০

৬. জাতীয়তা : বাংলাদেশি

৭. ধর্ম : ইসলাম

৮. বৈবাহিক অবস্থা : অবিবাহিত

৯. যোগাযোগ (মোবাইল) : ০১৭xxxxxxxx

১০. ই-মেইল : ashraful@email.com

১১. শিক্ষাগত যোগ্যতা :

পরীক্ষার নামবোর্ড/বিশ্ববিদ্যালয়পাসের সনজিপিএ/সিজিপিএবিভাগ/শাখা
এমবিএঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়২০২৪৩.৮০ (৪.০০-এর মধ্যে)মার্কেটিং
বিবিএঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়২০২৩৩.৭৫ (৪.০০-এর মধ্যে)মার্কেটিং
এইচএসসিঢাকা বোর্ড২০১৮৫.০০ (৫.০০-এর মধ্যে)ব্যবসায় শিক্ষা
এসএসসিঢাকা বোর্ড২০১৬৫.০০ (৫.০০-এর মধ্যে)ব্যবসায় শিক্ষা

১২. ভাষা জ্ঞান : বাংলা ও ইংরেজি ভাষায় সাবলীলভাবে কথা বলা ও লেখায় পারদর্শী।

১৩. কম্পিউটার দক্ষতা : এমএস অফিস (ওয়ার্ড, এক্সেল, পাওয়ারপয়েন্ট) এবং ইন্টারনেট ব্রাউজিংয়ে দক্ষ।

১৪. অভিজ্ঞতা : একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে ‘সহকারী অফিসার’ হিসেবে ১ বছরের কাজের অভিজ্ঞতা রয়েছে।

অতএব, মহোদয়ের নিকট বিনীত প্রার্থনা, আমার শিক্ষাগত যোগ্যতা ও জীবনবৃত্তান্ত সদয় বিবেচনা করে আমাকে উক্ত পদে নিয়োগ লাভের সুযোগ দান করলে আমি আমার সর্বোচ্চ মেধা, পরিশ্রম ও সততার সাথে প্রতিষ্ঠানের উন্নতিতে ভূমিকা রাখতে সক্ষম হব।

বিনীত নিবেদক,

(স্বাক্ষর)

মো. আশরাফুল ইসলাম

সংযুক্ত প্রমাণপত্রাদি:

১. সকল শিক্ষাগত যোগ্যতার সনদ ও নম্বরপত্রের সত্যায়িত অনুলিপি।

২. জাতীয় পরিচয়পত্রের সত্যায়িত অনুলিপি।

৩. সদ্য তোলা ৩ কপি পাসপোর্ট সাইজের রঙিন ছবি।

৪. চারিত্রিক সনদের অনুলিপি।

১০। (ক) সারাংশ লেখো:

“সাহিত্যের উদ্দেশ্য সকলকে আনন্দ দেওয়া, কারও মনোরঞ্জন করা নয়। এ দুয়ের ভিতর যে আকাশ-পাতাল প্রভেদ আছে, সেইটি ভুলে গেলেই লেখকেরা নিজে খেলা না করে পরের জন্যে খেলনা তৈরি করতে বসেন। সমাজের মনোরঞ্জন করতে গেলে সাহিত্য যে স্বধর্মচ্যুত হয়ে পড়ে, তার প্রমাণ বাংলাদেশে আজ দুর্লভ নয়। কাব্যের ঝুমঝুমি, বিজ্ঞানের চুষিকাঠি, দর্শনের বেলুন, রাজনীতির রাঙালাঠি, ইতিহাসের ন্যাকড়ার পুতুল, নীতির টিনের ভেঁপু এবং ধর্মের জয়ঢাক—এইসব জিনিসে সাহিত্যের বাজার ছেয়ে গেছে। সাহিত্যরাজ্যে খেলনা পেয়ে পাঠকের মনতুষ্টি হতে পারে না।” [১০]

উত্তর (ক) সারাংশ:

সাহিত্যের মূল উদ্দেশ্য হলো পাঠকের চিত্তকে গভীর ও চিরন্তন আনন্দ দান করা; সাময়িক ও সস্তা মনোরঞ্জন করা নয়। মনোরঞ্জন করতে গেলে সাহিত্য তার স্বাতন্ত্র্য ও গাম্ভীর্য হারিয়ে সস্তা খেলনায় পরিণত হয়। বর্তমানে নীতি, ধর্ম বা রাজনীতির প্রচারসর্বস্ব ও চটকদার উপাদানে সাহিত্যের বাজার ভরে গেলেও এসব খেলনাসদৃশ রচনা পাঠকের মনকে প্রকৃত তৃপ্তি বা খাঁটি সাহিত্যিক আনন্দ দিতে পারে না।

(খ) ভাবসম্প্রসারণ করো:

“পথের প্রান্তে আমার তীর্থ নয়

পথের দু’ধারে আছে মোর দেবালয়।” [১০]

উত্তর (খ) ভাবসম্প্রসারণ:

মূলভাব:

পরম করুণাময় ঈশ্বর বা স্রষ্টাকে লাভের জন্য দূর-দূরান্তের কোনো নির্দিষ্ট তীর্থস্থান বা দেবালয়ে ছুটে যাওয়ার প্রয়োজন নেই; আমাদের চারপাশের অবহেলিত ও সাধারণ মানুষের মাঝে সেবা ও ভালোবাসার হাত বাড়িয়ে দিলেই স্রষ্টার প্রকৃত সান্নিধ্য ও সন্তুষ্টি লাভ করা যায়।

সম্প্রসারণ:

আবহমান কাল ধরে মানুষ ঈশ্বরের নৈকট্য লাভের আশায় এবং মনের প্রশান্তির জন্য বিভিন্ন ধর্মীয় উপাসনালয় বা তীর্থস্থানে ভ্রমণ করে থাকে। দুর্গম পাহাড়, গভীর অরণ্য কিংবা দূরবর্তী কোনো পবিত্র স্থানে গিয়ে মানুষ স্রষ্টাকে খোঁজে। কিন্তু মানুষের এই ধারণা সম্পূর্ণ সঠিক নয়। ঈশ্বর কোনো নির্দিষ্ট গণ্ডি বা ইটের তৈরি মন্দিরে সীমাবদ্ধ নন; তিনি সর্বব্যাপী এবং তাঁর শ্রেষ্ঠ সৃষ্টি এই মানুষের মাঝেই তিনি বিরাজমান। স্বামী বিবেকানন্দ যথার্থই বলেছেন— "বহুরূপে সম্মুখে তোমার ছাড়ি কোথা খুঁজিছ ঈশ্বর? / জীবে প্রেম করে যেই জন, সেই জন সেবিছে ঈশ্বর।"

আমাদের জীবন চলার পথের দুই পাশেই ছড়িয়ে রয়েছে অসংখ্য দুঃখী, দরিদ্র, ব্যথিত এবং অসহায় মানুষ। এই মানুষগুলোর মধ্যেই স্রষ্টার পরোক্ষ উপস্থিতি রয়েছে। আমরা যদি তীর্থযাত্রার পেছনে অঢেল অর্থ ও সময় ব্যয় না করে সেই সম্পদ দিয়ে আমাদের চারপাশের ক্ষুধার্তকে অন্ন দিই, বস্ত্রহীনকে বস্ত্র দিই এবং রোগীকে চিকিৎসাসেবা প্রদান করি, তবে সেটাই হবে শ্রেষ্ঠ ইবাদত বা পরম তীর্থদর্শন। একজন অসহায় মানুষের মুখে হাসি ফোটাতে পারলে যে স্বর্গীয় আনন্দ লাভ হয়, পৃথিবীর কোনো মন্দিরে মাথা ঠুকে তা পাওয়া সম্ভব নয়। কবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরও বলেছেন— "ভজন পূজন সাধন আরাধনা সমস্ত থাক পড়ে..."। মূলত আর্তমানবতার নিঃস্বার্থ সেবাই হলো স্রষ্টাকে পাওয়ার সবচেয়ে সহজ ও সত্য পথ।

মন্তব্য:

প্রকৃত ধর্ম ও তীর্থ কোনো নির্দিষ্ট স্থানে বন্দি নয়। মানুষের প্রতি গভীর ভালোবাসা ও সেবার মাঝেই ঈশ্বরের প্রকৃত দেবালয় প্রতিষ্ঠিত। তাই মানবসেবাকেই জীবনের শ্রেষ্ঠ তীর্থ বলে গ্রহণ করা উচিত।

১১। (ক) কারিগরি শিক্ষার গুরুত্ব নিয়ে দুই বন্ধুর মধ্যে সংলাপ রচনা করো। [১০]

উত্তর (ক): সংলাপ রচনা:

(রাকিব ও শফিক দুই বন্ধু। এইচএসসি পরীক্ষার পর তাদের ভবিষ্যৎ শিক্ষা ও কর্মজীবন নিয়ে কথা হচ্ছে।)

রাকিব: কিরে শফিক, কেমন আছিস? পরীক্ষা তো শেষ হলো, এখন অবসর সময়টা কীভাবে কাটছে?

শফিক: ভালো আছি রে। তবে অবসর আর কই! এখন তো ভবিষ্যতের পড়াশোনা আর ক্যারিয়ার নিয়ে খুব ভাবনায় পড়েছি। তুই কী ভাবছিস?

রাকিব: আমি ঠিক করেছি, সাধারণ কোনো বিষয়ে অনার্স না করে কারিগরি ও কর্মমুখী শিক্ষায় ভর্তি হব।

শফিক: কারিগরি শিক্ষা? সাধারণ বিশ্ববিদ্যালয়ে না পড়ে তুই কারিগরি শিক্ষায় যাবি কেন?

রাকিব: দেখ শফিক, আমাদের দেশে প্রতি বছর লাখ লাখ শিক্ষার্থী সাধারণ শিক্ষায় উচ্চডিগ্রি নিয়ে বের হচ্ছে, কিন্তু চাকরির বাজারে এসে তারা বেকার হয়ে পড়ছে। কারণ তাদের কোনো বাস্তব বা ব্যবহারিক কাজের দক্ষতা নেই।

শফিক: কথা অবশ্য মিথ্যা বলিসনি। আমাদের দেশে শিক্ষিত বেকারের সংখ্যা দিন দিন বেড়েই চলেছে।

রাকিব: ঠিক তাই! অথচ কারিগরি বা ভোকেশনাল শিক্ষায় কোনো শিক্ষার্থীকে সুনির্দিষ্ট কোনো ট্রেডে বা প্রযুক্তিতে হাতে-কলমে দক্ষ করে তোলা হয়। ফলে পড়াশোনা শেষ করেই তারা কর্মক্ষেত্রে প্রবেশ করতে পারে।

শফিক: তার মানে তুই বলছিস, কারিগরি শিক্ষা নিলে বেকার থাকার ঝুঁকি কম থাকে?

রাকিব: একদম! শুধু চাকরি পাওয়াই নয়, কারিগরি শিক্ষায় দক্ষ একজন মানুষ নিজে উদ্যোগী হয়ে আত্মকর্মসংস্থান গড়ে তুলতে পারে। এমনকি বিদেশেও দক্ষ কারিগরি জনবলের প্রচুর চাহিদা ও উচ্চ বেতন রয়েছে।

শফিক: তুই তো আমার চোখ খুলে দিলি! আমাদের জাতীয় অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্যও তো তাহলে দক্ষ কারিগরি জনবল খুব দরকার।

রাকিব: ঠিক ধরেছিস। কোনো দেশই শুধু পুঁথিগত বিদ্যা দিয়ে উন্নত হতে পারে না। চীন, জাপান বা জার্মানির মতো দেশগুলো আজ এত উন্নত হওয়ার প্রধান কারণ তাদের কারিগরি শিক্ষার প্রসার।

শফিক: অনেক ধন্যবাদ রাকিব। আমি আজই বাসায় গিয়ে কারিগরি শিক্ষার বিভিন্ন কোর্স ও প্রতিষ্ঠান নিয়ে খোঁজ নেব। আমিও স্বনির্ভর ও দক্ষ হয়ে গড়ে উঠতে চাই।

রাকিব: তোকেও ধন্যবাদ বন্ধু। চল, আমরা দুজন মিলেই ভবিষ্যৎ গড়ার প্রস্তুতি নিই।

(খ) ‘স্বনির্ভরতার জন্য ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্পের বিকাশ চাই’ শিরোনামে একটি খুদেগল্প রচনা করো। [১০]

উত্তর (খ): খুদেগল্প রচনা:

স্বনির্ভরতার জন্য ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্পের বিকাশ চাই

মফস্বল শহরের যুবক রাশেদ। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতকোত্তর শেষ করে টানা তিন বছর চাকরির পেছনে ছুটেছে। কিন্তু সোনার হরিণ চাকরির দেখা মেলেনি। এদিকে মধ্যবিত্ত বৃদ্ধ বাবার অবসরের টাকায় সংসার আর চলছিল না। হতাশা যখন রাশেদকে ঘিরে ধরছিল, তখনই একদিন গ্রামের বাড়িতে গিয়ে তার চোখ আটকে গেল প্রতিবেশী বৃদ্ধা রহিমা খালার হাতের কাজের দিকে। খালা বাঁশ, বেত ও পাটের আঁশ দিয়ে চমৎকার সব ঝুড়ি, শোপিস ও শিকা তৈরি করছিলেন।

রাশেদের মনে চকিতে এক নতুন ভাবনার উদয় হলো। সে ভাবল, আমাদের গ্রামবাংলায় ছড়িয়ে থাকা এই ঐতিহ্যবাহী ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্পকে যদি আধুনিক ডিজাইনে রূপ দিয়ে বাজারি করা যায়, তবে কেমন হয়? সে আর দেরি করল না। নিজের জমানো মাত্র পনেরো হাজার টাকা পুঁজি নিয়ে সে কাজ শুরু করল। গ্রামের কয়েকজন কারিগর নারীকে নিয়ে সে ছোট একটি কারখানা গড়ে তুলল। বাঁশ, বেত, মাটি ও পাটের তৈরি পরিবেশবান্ধব ও নান্দনিক বিভিন্ন নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য তৈরি হতে লাগল সেখানে।

রাশেদ তার আধুনিক শিক্ষার জ্ঞান কাজে লাগিয়ে ফেসবুক ও ইন্টারনেটে একটি ই-কমার্স পেজ খুলল। শহরের সৌখিন মানুষের কাছে পরিবেশবান্ধব হস্তশিল্পের কদর সবসময়েই বেশি। অল্পদিনের মধ্যেই রাশেদের পণ্যের ব্যাপক সাড়া পাওয়া গেল। দেশের বড় বড় মেগা শপগুলো থেকে অর্ডারের পাহাড় জমতে লাগল।

মাত্র দুই বছরের ব্যবধানে রাশেদের সেই ছোট্ট উদ্যোগ আজ একটি লাভজনক প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়েছে। গ্রামের প্রায় পঞ্চাশজন অসহায় ও হতদরিদ্র নারীর স্থায়ী কর্মসংস্থান হয়েছে সেখানে। রাশেদ আজ আর বেকার নয়, সে এখন একজন সফল উদ্যোক্তা ও স্বনির্ভর মানুষ। একদিন এলাকার যুবসমাবেশে সংবর্ধনা নিতে এসে রাশেদ দীপ্ত কণ্ঠে বলল, "চাকরির পেছনে না ছুটে আমরা যদি আমাদের দেশীয় ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্পের আধুনিক বিকাশ ঘটাতে পারি, তবে দেশের প্রতিটি বেকার যুবকই স্বনির্ভর হয়ে উঠবে। বদলে যাবে আমাদের বাংলাদেশ।"

১২। যে-কোনো একটি বিষয় অবলম্বনে প্রবন্ধ রচনা করো: [২০]

(ক) জাতীয় উন্নয়নে তথ্যপ্রযুক্তি;

(খ) পরিবেশ দূষণ ও তার প্রতিকার;

(গ) গাছ লাগাও পরিবেশ বাঁচাও;

(ঘ) মাদকাসক্তি ও তার প্রতিকার;

(ঙ) প্রাকৃতিক নৈসর্গে বাংলাদেশ।

(নিচে ১নং বিষয় ‘জাতীয় উন্নয়নে তথ্যপ্রযুক্তি’ অবলম্বনে একটি পূর্ণাঙ্গ ও মানসম্মত ২০ নম্বরের প্রবন্ধ রচনা করে দেওয়া হলো)

জাতীয় উন্নয়নে তথ্যপ্রযুক্তি

ভূমিকা:

বর্তমান মানবসভ্যতা দাঁড়িয়ে আছে প্রযুক্তির শক্ত ভিত্তির ওপর। একবিংশ শতকের এই আধুনিক যুগকে বলা হয় তথ্যপ্রযুক্তির যুগ। তথ্য ও প্রযুক্তির অপূর্ব সমন্বয়ে আজ সমগ্র পৃথিবী চলে এসেছে মানুষের হাতের মুঠোয়, পরিণত হয়েছে একটি ‘গ্লোবাল ভিলেজ’ বা বিশ্বগ্রামে। একটি দেশের সার্বিক ও টেকসই উন্নয়নের চাবিকাঠি এখন তথ্যপ্রযুক্তির সঠিক ও সর্বোচ্চ ব্যবহারের ওপর নির্ভরশীল। বাংলাদেশও আজ তথ্যপ্রযুক্তির মহাসড়কে দ্রুতগতিতে এগিয়ে চলছে। ‘ডিজিটাল বাংলাদেশ’ রূপকল্প বাস্তবায়নের পর এখন আমাদের লক্ষ্য ‘স্মার্ট বাংলাদেশ’ বিনির্মাণ, যার মূল চালিকাশক্তিই হলো তথ্যপ্রযুক্তি।

তথ্যপ্রযুক্তি কী:

তথ্যপ্রযুক্তি (Information Technology বা IT) হলো এমন এক সমন্বিত ব্যবস্থা যার মাধ্যমে তথ্য সংগ্রহ, সংরক্ষণ, প্রক্রিয়াকরণ, আধুনিকীকরণ এবং দ্রুততম সময়ে এক স্থান থেকে অন্য স্থানে স্থানান্তর বা বিনিময় করা হয়। কম্পিউটার, ইন্টারনেট, মোবাইল ফোন, স্যাটেলাইট, অপটিক্যাল ফাইবার, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI), রোবটিক্স ইত্যাদি হলো তথ্যপ্রযুক্তির প্রধান মাধ্যম ও উপকরণ।

জাতীয় উন্নয়নে তথ্যপ্রযুক্তির ভূমিকা:

কোনো দেশের জাতীয় উন্নয়ন কেবল একটি নির্দিষ্ট খাতের ওপর নির্ভর করে না; বরং শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কৃষি, অর্থনীতি, যোগাযোগ ও প্রশাসনের যৌথ অগ্রগতির ফলেই জাতীয় উন্নয়ন সম্ভব হয়। নিচে বিভিন্ন ক্ষেত্রে তথ্যপ্রযুক্তির বৈপ্লবিক ভূমিকা আলোচনা করা হলো:

১. শিক্ষা ব্যবস্থার আধুনিকীকরণ:

জাতীয় উন্নয়নের মূল ভিত্তি হলো শিক্ষা। তথ্যপ্রযুক্তি শিক্ষাক্ষেত্রে যুগান্তকারী পরিবর্তন এনেছে। এখন আর শিক্ষা কেবল ক্লাসরুমের চার দেয়ালের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। অনলাইন ক্লাস, ই-বুক, মাল্টিমিডিয়া ক্লাসরুম এবং বিভিন্ন শিক্ষামূলক ওয়েবসাইটের মাধ্যমে দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলের শিক্ষার্থীরাও আজ বিশ্বমানের শিক্ষা লাভ করছে। করোনা মহামারির সময়ে তথ্যপ্রযুক্তির কল্যাণেই দেশের সমগ্র শিক্ষা ব্যবস্থা সচল রাখা সম্ভব হয়েছিল।

২. অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও ব্যবসা-বাণিজ্য:

তথ্যপ্রযুক্তি আধুনিক অর্থনীতির প্রাণভোমরা। ই-কমার্স (e-Commerce) ও এফ-কমার্স (f-Commerce)-এর প্রসারের ফলে আজ ঘরে বসেই কেনাকাটা ও ব্যবসা পরিচালনা করা সম্ভব হচ্ছে। অনলাইন ব্যাংকিং, মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিস (যেমন: বিকাশ, নগদ, রকেট) এবং অটোমেটেড পেমেন্ট সিস্টেম দেশের অর্থব্যবস্থায় অসাধারণ গতিশীলতা এনেছে। ফলে জাতীয় উৎপাদন ও প্রবৃদ্ধি দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে।

৩. কর্মসংস্থান ও ফ্রিল্যান্সিং বিপ্লব:

বাংলাদেশের মতো জনবহুল দেশে বেকারত্ব একটি বড় সমস্যা। তথ্যপ্রযুক্তি এই সমস্যার সমাধানে নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছে। আজ লাখ লাখ তরুণ-তরুণী ফ্রিল্যান্সিং বা আউটসোর্সিংয়ের মাধ্যমে ঘরে বসেই আমেরিকা, ইউরোপের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কাজ করে বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করছে। বিশ্ববাজারে ফ্রিল্যান্সিংয়ে বাংলাদেশের অবস্থান এখন প্রথম সারিতে, যা জাতীয় অর্থনীতিকে অত্যন্ত সমৃদ্ধ করছে।

৪. কৃষি খাতের ডিজিটালাইজেশন:

বাংলাদেশ একটি কৃষিস্বভাবী দেশ। তথ্যপ্রযুক্তির ছোঁয়ায় আমাদের সনাতন কৃষি আজ আধুনিক ও বৈজ্ঞানিক কৃষিতে রূপান্তরিত হয়েছে। ‘কৃষি বাতায়ন’, ‘ই-কৃষি’ এবং বিভিন্ন মোবাইল অ্যাপের মাধ্যমে কৃষকেরা আজ আবহাওয়ার পূর্বাভাস, উন্নত বীজ, ফসলের রোগবালাই দমন এবং সঠিক বাজারদর সম্পর্কে তাৎক্ষণিক তথ্য পাচ্ছেন। এর ফলে ফসলের উৎপাদন বৃদ্ধি পাচ্ছে এবং দেশ খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন করছে।

৫. স্বাস্থ্যসেবার মানোন্নয়ন:

তথ্যপ্রযুক্তির কল্যাণে চিকিৎসাক্ষেত্রে যুক্ত হয়েছে ‘টেলিমেডিসিন’ সেবা। এর ফলে গ্রামের দুর্গম এলাকার একজন রোগীও মোবাইল বা ইন্টারনেটের মাধ্যমে ঢাকার কিংবা বিদেশের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে পারছেন। এছাড়া আধুনিক ডায়াগনস্টিক যন্ত্রপাতি এবং রোগীর তথ্য সংরক্ষণে আইটির ব্যবহার স্বাস্থ্যসেবাকে করেছে দ্রুত ও নির্ভুল।

৬. সুশাসন ও ই-গভর্ন্যান্স:

একটি দেশের উন্নয়নের জন্য স্বচ্ছ ও দুর্নীতিমুক্ত প্রশাসন অপরিহার্য। তথ্যপ্রযুক্তির ব্যবহারের মাধ্যমে সরকার ‘ই-গভর্ন্যান্স’ বা ইলেকট্রনিক প্রশাসন চালু করেছে। আজ ই-নথি, ই-পাসপোর্ট, অনলাইন জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন, জমির ই-পর্চা, জাতীয় পরিচয়পত্র এবং বিভিন্ন সরকারি ভাতা সরাসরি সুবিধাভোগীদের মোবাইলে পৌঁছে যাচ্ছে। ফলে সরকারি কাজে দীর্ঘসূত্রতা ও দুর্নীতি অনেকাংশে হ্রাস পেয়েছে এবং সুশাসন নিশ্চিত হচ্ছে।

৭. যোগাযোগ ব্যবস্থার বিপ্লব:

তথ্যপ্রযুক্তি সমগ্র বিশ্বকে এক সুতোয় গেঁথেছে। মোবাইল ফোন, ইন্টারনেট, ই-মেইল এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের (Facebook, WhatsApp, Zoom) কারণে আজ মুহূর্তের মধ্যেই পৃথিবীর যেকোনো প্রান্তের মানুষের সাথে যোগাযোগ ও তথ্য আদান-প্রদান সম্ভব হচ্ছে। এটি জাতীয় ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্য এবং কূটনৈতিক সম্পর্ককে সুদৃঢ় করছে।

তথ্যপ্রযুক্তির নেতিবাচক দিক ও সতর্কতা:

তথ্যপ্রযুক্তির অসীম সম্ভাবনার পাশাপাশি কিছু নেতিবাচক দিকও রয়েছে। সাইবার অপরাধ, হ্যাকিং, গুজব ছড়ানো, কিশোর-তরুণদের ইন্টারনেটে আসক্তি এবং অশ্লীলতার বিস্তার সমাজ ও জাতীয় জীবনের জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে। তাই তথ্যপ্রযুক্তির ব্যবহারে আমাদের সচেতন ও দায়িত্বশীল হতে হবে এবং রাষ্ট্রকে শক্তিশালী সাইবার নিরাপত্তা ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে।

উপসংহার:

পরিশেষে বলা যায়, তথ্যপ্রযুক্তি হলো আধুনিক আলাদিনের আশ্চর্য প্রদীপ। এটি ছাড়া একবিংশ শতাব্দীতে কোনো জাতির টিকে থাকা ও অগ্রগতি অর্জন করা অসম্ভব। জাতীয় উন্নয়নের প্রতিটি ক্ষেত্রে তথ্যপ্রযুক্তি আজ এক আশীর্বাদ রূপে আবির্ভূত হয়েছে। তাই আমাদের উচিত এর নেতিবাচক দিকগুলো বর্জন করে ইতিবাচক সম্ভাবনাকে কাজে লাগানো। তথ্যপ্রযুক্তির যথাযথ বিকাশ ও সর্বস্তরে এর সুষ্ঠু প্রয়োগের মাধ্যমেই আমরা একটি উন্নত, সমৃদ্ধ ও আধুনিক ‘স্মার্ট বাংলাদেশ’ গড়ে তুলতে সক্ষম হব।


Join Telegram for Daily Updates
Related Posts

Post a Comment